মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সাথে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান।
ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ জানায়, আইআরজিসির বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর অন্তত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেআইনিভাবে পার হওয়ার চেষ্টাকালে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের জলযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি— ইরানের ক্রমাগত ও অযাচিত আগ্রাসনের জবাব দিতেই বুধবার গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ উল্লেখ করেছে, এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামলার ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কারগানে বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে আইআরজিসি। মূলত, হরমুজে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ‘অ্যাপাচি হেলিকপ্টার’ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এক দিন পরই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হলো।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানে খুব শক্তভাবে আঘাত করবে। আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু ওরা আমাদের বোকা বানাচ্ছে।” ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলো জনগণের প্রাণভোমরা। এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি শক্তির প্রকাশ নয়, বরং এটি হতাশার লক্ষণ। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওপর নির্ভর করে ইরান যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে।” (সূত্র: আল জাজিরা এবং অ্যাক্সিওস)